নরঃ নরৌ নরাঃ

মায়া অ্যাঞ্জেলো

Men/ Maya Angelou

তখন সবে কিশোরী, মাঝে মাধ্যেই
পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরেটা তরিয়ে তরিয়ে দেখি
পুরুষেরা হেঁটে যায়, হেঁটে আসে রাস্তায়। পাড় মাতাল, বৃদ্ধ মানুষ
ফুলবাবু যুবা পুরুষ।
তাকিয়ে থাকি। পুরুষেরা সারাক্ষণ
কোথাও না কোথাও যায়।
ওরাও জানতো পর্দার পেছনে আমি, পনেরো
বছর বয়সী একটা মেয়ে, চেয়ে বসে আছি হা-ভাতের মতো।
আমার জানালার কাছে এসে ওরা থামতো
কাঁধের সমান উচুতে
একটা কচি মেয়ের স্তন,
পোশাকের ফিতে নিশ পিশ করছে
সেথায় চেপে বসে নিচে,
নরঃ
তারপর একদিন কেউ জড়িয়ে ধরে
হাতের তালুতে, বিনম্র, যেন তুমি
পৃথিবীর সর্বশেষ কাঁচা ডিম। তারপর
চাপ বাড়ায়। অতি সামান্য।
প্রথম পেষন চমৎকার। আলতো দ্রত জড়িয়ে ধরা।
তোমার বাঁধা না দেওয়ায় কোমলতা। অল্প
আরেকটু। যন্ত্রনা শুরু। হেঁচকা টানে বেরিয়ে আসে
মুচকী হাসি ভীতির প্রলেপ চৌধার। তারপর
বায়ু শূণ্য,
তোমার হৃদয়ে ঠক ঠকা ঠক, ভয়াবয় বিস্ফোরন, ছোট্ট
ধপ করে জ্বলে ওঠা রান্নাঘরের গ্যাসের চুলো। চৌচির।
তোমার নিজেস্ব নির্যাস
ওদের উরু গড়িয়ে নামে। জুতোয় দাগ ফেলে।
পৃথিবীতে আবারো ফিরে আসে নিজ গতি,
এবং জ্বিহবায় ফিরে আসতে চায় স্বাদ
দেহটা বন্ধ হয়ে যায় দড়াম করে। আমরন।
বেরোবার পথ নেই কোনো।

অতঃপর জানালাটা ছাপ ফেলে যাবে আস্ত তোমার
হৃদয়ের গভীরে। সেখানে, ঠিক নিচে
পর্দার দোলা, পুরুষদের হাঁটা চলা।
কিছু কিছু চেনা জানা
কোথাও যায়।
তবে এবার, আমি নিছকই
চেয়ে চেয়ে দেখি।

হয়তো বা।

সেলিয়া, সেলিয়া

অ্যাড্রিয়ান মিচেল

Celia, Celia/Adrian Mitchell

আমি যখনই হয়ে পড়ি ক্লান্ত, অবসন্ন
চারিদিকে দেখি শুধুই আশাহীন লগ্ন
একা একা ঘুরি ফিরি যেথায় সেথায়
মনে মনে আঁকি তোমারই ছবি,নগ্ন

এ্যভারনো

লুইস গ্লিক

Averno, LOUISE GLÜCK

এ্যভারনো

প্রাচীন নাম, এ্যভারনাস। ইতালির নেপলস থেকে দশ মাইল পশ্চিমে নিভে যাওয়া আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে গড়ে ওঠা ছোট একটা হ্রদ; প্রাচীন রোমানদের ধারনা এটা পাতালে প্রবেশের দ্বার।

ক.
তোমার আত্মার মরণ মানেই তোমার মৃত্যু
অন্যথায় তুমি জীবিত
হয়তো বেঁচে থেকেও ভালো কোনো চাকরি বাকরি নেই, তবু করছো –
কিছু একটা চোখ কান বুজে

আমার ছেলে-মেয়েদের যখন বলি এসব
ওরা মন দেয় না মোটেই
ভাবে, বুড়ো মানুষ
ওদেরতো এসবই কাজ সারা দিন:
যা অন্য কারো এখন আর চোখে পড়ে না সে সব নিয়েই বকবক
মাথা তেকে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতীগুলো সব ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনা
ওরা একে অপরের চোখে দেখে চোখ পিট পিট করে;
বৃদ্ধ জনের মুখে শোনে, পরমাত্মার কথা
কারন তাদের মনে পড়ে না আজ আর কুরশী মানেও চেয়ার

একা থাকা বড় ভয়ানক
একা থাকা মানে একা একা থাকা নয় –
একা থাকা মানে, তোমার কথা শোনবার কেউ নেই চারি পাশে

আমি জানি কুরশী মানে চেয়ার
তবে কী জানো – আমার মোটেও ইচ্ছে করে না আর

আমি ভাবতে ভাবতে জাগি
তোমাকে তৈরি হতে হবে
চট করে আত্মা চলে গেলে –
পৃথিবীর সমস্ত কুরশীও তোমার আর কোনো কাজে লাগবে না

নদী

কত না ঘাট
পেরিয়ে পথ করে
নিয়ে হও তুমি
স্রোতস্বিনী তটিনী
নদী। ধাও কোথায়?

ও নদী তুমি,
যাও কোথায় ধেয়ে ধেয়ে
এক নিশ্বাসে?
‘সাগরে পড়েই তো
আমার সব সুখ।‘

কীসে যে সুখ
কার কাছে কী যাচে
কে, কে তা জানে

নারী তুমি নদীর মতোই
অপাপবিদ্ধ স্রোত

আরো

শেষ